
তিতাসপোস্ট.কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার এসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) অলিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে স্বামীর বাড়ি থেকে বেআইনিভাবে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোছাঃ সরূপা আক্তার এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের ধন মিয়ার মেয়ে মোছাঃ সরূপা আক্তার ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার ঘনেশ্যামপুর গ্রামের মোঃ রাসেল মিয়ার সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পরই সাংসারিক প্রয়োজনে স্বামী মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি জমান। স্ত্রী সরূপা আক্তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাবার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিবাহের আগে স্বামী রাসেল মিয়া আরও দুটি বিয়ে করলেও তা গোপন রেখে সরূপাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে এসব বিষয় নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিছুদিন আগে সে শ্বশুর বাড়িতে গেলে তার শ্বশুর ঝন্টু মিয়া বিজয়নগর থানার এসআই অলিউদ্দিনকে নিয়ে বাড়িতে হাজির হন।
সরূপার অভিযোগ, এসআই অলিউদ্দিন কোনো নারী পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন—“যদি বাবার বাড়ি না যাও, তাহলে থানায় নিয়ে গিয়ে জেলহাজতে চালান করে দিব।” সরূপা এতে আপত্তি জানালে এসআই অলিউদ্দিন তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জোরপূর্বক পুলিশি গাড়িতে তুলে নিয়ে এবং পরবর্তীতে ছতরপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।
সেখানে অসহায় অবস্থায় পড়লে সরূপা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ করেন।
সরূপার অভিযোগে আরও বলা হয়, “এসআই অলিউদ্দিন আমার শান্তিপূর্ণ দাম্পত্যজীবনে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করে আমাকে সামাজিকভাবে অপমানিত করেছেন। আমার অধিকার ক্ষুন্ন করেছেন।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর শ্বশুর ঝন্টু মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টা মীমাংসা করতে চেয়েছিলাম।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই অলিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “মেয়েটি শ্বশুর বাড়িতে আত্মহত্যা করবে বলায় আমি তাকে থানায় নিয়ে জেলে পাঠানোর কথা বলেছি।”
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন নারীকে এভাবে পুলিশি হস্তক্ষেপে ঘর ছাড়া করাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা। তারা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী সরূপা আক্তার দেশবাসীর কাছে সুবিচার ও তার স্বামীর ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

